বৈদ্যুতিক শক

অসাবধাণতা বা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কারণে যে কেউ তড়িতাহত হতে পারেন। এইসব ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার ভয়াবহতা নির্ভর করে শরীরের ভিতর দিয়ে কি পরিমান তড়িৎ প্রবাহিত হয়েছে তার ওপর।

প্রবাহিত কারেন্ট এর পরিমাণ = ভোল্টেজ / রোধ

একারণে রোধ বাড়লে , একটা নির্দিষ্ট ভোল্টেজ এর জন্য কারেন্ট প্রবাহ কমে আসে। একারণে আপনি যদি জুতা পরা অবস্থায় বিদ্যুৎপৃষ্ট হন, তবে আপনি মাইল্ড শক অনুভব করবেন। এর কারণ হলো রাবার এর জুতার কারণে রোধ অনেক বেড়ে যায় তাই বিদ্যুৎ প্রবাহ অনেক কম হয়। একই শক যদি আপনি খালি পায়ে খান তাহলে বিদ্যুৎ প্রবাহ অনেক বেশি হবে। একারণে শক খাওয়ার সম্ভবনা থাকে এধরণের কাজ করার সময় অবশ্যই অবশ্যই রাবার গ্লাভস এবং মোটা রাবার এর জুতা পরে নেয়া উচিত।

চলেন দেখে নেই কারেন্ট এর পরিমাণ এর সাথে ভয়াবহতা কিভাবে বাড়তে থেকে ….

কারেন্ট এর পরিমাণফলাফল
১ মিলি অ্যাম্পিয়ার বা তার কম আপনি অনুভব করতেই পারবেন না। নিরাপদ, কোন সমস্যা নেই।
১ মিলি অ্যাম্পিয়ার- ৮ মিলি অ্যাম্পিয়ারমৃদু শক অনুভব করবেন। আপনার পেশী এর উপর আপনার নিয়ন্ত্রন থাকবে তাই নিজে থেকেই সরে আসতে পারবেন ।
৮ মিলি অ্যাম্পিয়ার – ১৫ মিলি অ্যাম্পিয়ারতীব্র ব্যাথা অনুভব করবেন। এক্ষেত্রে অনেক সময় আক্রান্ত ব্যাক্তির পেশীর উপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না, তাই নিজে থেকে সরে আসতে পারে না। খুব দ্রুত কেউ সাহায্য না করলে আক্রান্ত ব্যাক্তি মারাও জেতে পারে।
১৫ মিলি অ্যাম্পিয়ার – ১০০ মিলি অ্যাম্পিয়ারVentricular fibrillation হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আমাদের হার্ট যে স্বাভাবিক ছন্দে স্পন্দিত হয় সেটা নষ্ট হয়ে যাওয়াই হল Ventricular fibrillation। এধরনের ক্ষেত্রে ফার্স্ট এইড/সি পি আর ছাড়া রোগীকে বাঁচানো সম্ভব না ।
১০০ মিলি অ্যাম্পিয়ার – ২০০ মিলি অ্যাম্পিয়ারVentricular fibrillation নিশ্চিত ।
২০০ মিলি অ্যাম্পিয়ার এর বেশি২০০ মিলি অ্যাম্পিয়ার এর বেশি বার্ন হবে, পেশীতে প্রচণ্ড ব্যাথা হবে এবং হার্ট বন্ধ হয়ে যাবার খুব ভাল সম্ভাবনা আছে । অতি দ্রুত ফার্স্ট এইড/ হাসপাতাল এ না নিলে মৃত্যু নিশ্ছিত।

এবার চলেন দেখে নেই এধরণের দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সাহায্যকারীদের করণীয় :

১. কখনোই তড়িতাহত ব্যক্তিকে স্পর্শ করবেন না , তাহলে আপনি নিজেও তড়িতাহত হতে পারেন।

২. প্রথমে চেষ্টা করবেন সুইচ বন্ধ করে দিতে/ প্লাগ খুলে ফেলতে/ বাসার মেইন সুইচ বন্ধ করে দিতে। এরকম করতে না পারলে চেষ্টা করবেন তড়িৎ অপরিবাহী কোনোকিছু যেমন শুকনো কাঠ / প্লাষ্টিক দিয়ে ধাক্কা দিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তিকে তড়িৎ এর উৎস থেকে দূরে সরিয়ে দিতে।

৩. শ্বাস -প্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকলে বেশী ভয় পাওয়ার কিছু নেই , রোগীকে শুয়ে থাকতে বলুন এবং পরীক্ষা করে দেখার জন্য ডাক্তার কে খবর দিন।

৪. শ্বাস -প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে গেলে আপনার দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেলো। এক্ষেত্রে অতিদ্রুত কৃত্রিম শ্বাস -প্রশ্বাস / cpr এর ব্যবস্থা করতে হবে। তথ্য -উপাত্ত অনুযায়ী ৩ মিনিট এর ভিতর কৃত্রিম শ্বাস -প্রশ্বাস এর ব্যবস্থা করা  গেলে ১০ জন এর ভেতর ৭ জন কে বাঁচানো সম্ভব। দেরি করলে এই সম্ভাবনাটা কমে আসে। এধরণের ক্ষেত্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার ওপর আক্রান্ত ব্যক্তির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নির্ভর করে।

চার মিনিট এর এই ভিডিওটা দেখে নিলে বিষয়গুলো আরো ভালোভাবে বুঝতে পারবেন।

আর কৃত্রিম শ্বাস -প্রশ্বাস / cpr এর পদ্ধতি শিখে নিতে পারেন এই ভিডিও থেকে।

 

আপনি “St John Ambulance First Aid” এই এন্ড্রয়েড এপ্লিকেশন তা ইনস্টল করে রাখতে পারেন। এটাতে  cpr সহ আরো অনেক ফার্স্ট এইড টিউটোরিয়াল দেওয়া আছে।

“Prevention is always always better than cure ” চলেন এবার জেনে নেই এধরণের দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য কি কি সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত:

১.বাসার কোনো বৈদ্যুতিক কাজ (যে কোনো ধরণের মেরামত) কখোনোই নিজে করতে যাবেন না, ইলেক্ট্রিসিয়ান ডাকুন। আর একান্তই যদি নিজে করতে হয় তাহলে অবশ্যই অবশ্যই মেইন সুইচ বন্ধ করে নিবেন। আর সবসময় পাশে আরেকজনকে রাখবেন বিপদে সাহায্য করার জন্য। ইলেক্ট্রিসিয়ান যখন আপনার বাসায় কাজ করবে তখন দেখবেন সে যেন কখনোই একা না থাকে। এধরণের কাজ করার সময় অবশ্যই অবশ্যই রাবার গ্লাভস এবং মোটা রাবার এর জুতা পরে নিতে হবে। আরেকটা সাবধানতা হলো এধরণের কাজ করার সময় অ্যালুমিনিয়াম বা ধাতব মই/ladder কোনোভাবেই ব্যবহার করা উচিত না।

২. ভেজা শরীরে বা হাতে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ধরা যাবে না। খালি পায়ে ভেজা জায়গায় দাঁড়িয়ে বিদ্যুতের কাজ করা যাবে না।

৩.কোনো তার বা সুইচ ক্ষতিগ্রস্থ হলে সাথে সাথেই ইলেক্ট্রিসিয়ান ডেকে বদলে ফেলা উচিত।

৪. খুব ভালো হয় যদি আপনি বাসায় GFCI  (ground fault circuit interrupter ) ব্যবহার  করেন।  GFCI সম্পর্কে জানতে এই ভিডিও তা দেখতে পারেন।

আর এধরণের সাবধানতা আপনি নিজে জেনে বসে থাকলে হবে না, বাসার সবার সাথে বিশেষ করে বাচ্চাদের সাথে শেয়ার করুন এবং তাদের বুঝিয়ে বলুন। সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.